শিবখোলা ভ্রমণ by Aritra Ghosh

 

Credit and Writer – Aritra Ghosh

আজ জানাই শিবখোলা নিয়ে। কার্শিয়াং, নরবুং এর ছোট্ট পাহাড়ি হ্যামলেট বা ছবির মত পাহাড়ি গ্রাম। NJP তে নেমে সোজা শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প রিসর্টে। পাহাড়ের কোলে ছোট্ট গ্রাম, আর মাঝে বইছে পাহাড়ি জলে পুষ্ট

নদী বা খোলা “শিবখোলা”। গাড়িতে এই ছোট্ট নদী পার করলেই গন্তব্য। অনেকেই মনে করেন হর্ণবিলের আদর্শ পরিবেশ, চারপাশে গাছপালায় অসংখ্য পাখপাখালি। কটেজে ঢুকলাম একসময়, একটু ফ্রেশ হলাম। সামনে নদীর জলে

নদীরই পাথর এমনভাবে সাজানো যে তার প্রাকৃতিক স্রোত ক্ষুণ্ন হচ্ছে না কিন্তু মাঝখানে একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক সুইমিং পুলের সৃষ্টি হয়েছে। স্ফটিকস্বচ্ছ জল, প্রচন্ড ঠান্ডা বরফগলা জল। ঠান্ডার ভয় ছিল, কিন্তু কেন জানি‌ না,

কাকতালীয় ভাবে আমার আগে থেকে লেগে থাকা সর্দি কাশি উধাও হয়ে গেল। পেটে তখন রাহু নাচছে স্নানের পর। মালিক প্রধানজী নিজে এসে দেখা করে গেলেন, তদারকি করে গেলেন। দুপুরে পরিপাটি শ্বেতশুভ্র প্লেটে ফাইন চাল,

ঘি, মুসুর ডাল, ঝুরো আলু ভাজা, স্যালাড, আলু-পেঁপের তরকারি, ডবল ডিমের অমলেট আর আলু দিয়ে কাতলার অসাধারণ ঝোল। খেয়ে উঠে নদী পারাপার করার বাঁশের সাঁকো আর নদীর ধারে বাঁধানো সিমেণ্টের বেঞ্চে বসে

পাখির ডাক আর নদীর আওয়াজ শুনে কেটে গেল। দিনটা ছিল শিবরাত্রির, কাছেই একটি শিবমন্দির আছে। প্রধানজী বেশী রাত করে ফিরতে বারণ করেছিলেন আলো কম বলে। বিকালে গেলাম সেখানে, একশো আট প্রদীপ জ্বলছে,

শিবস্তোস্ত্র পড়ছেন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ। ফেরার সময় দেখি রাস্তায় আলো নেই, চারদিক অন্ধকার, গা ছমছমে নিকষ কালো আঁধারের মধ্যে ফেরার অভিজ্ঞতা বলে বোঝানো যাবে না। হঠাৎ অদ্ভুত একটি শব্দ হতে থাকে আমাদের পেছনে,

মোবাইলে টর্চ জ্বালিয়েও উৎস খুঁজে পাইনি। এই সময় মাইকে শিবপুরাণ দূর থেকে ভেসে আসতে শব্দটা বন্ধ হয়।জানিনা কি ছিল, অপ্রাকৃত কিছুতে বিশ্বাস করিনা কিন্তু এর ব্যাখ্যা পাইনি। ফিরে এসে সন্ধ্যায় নিমকি, চা, পকোড়া

খেয়ে আড্ডা। রাতে ভাত, ডাল, তরকারি, দিশি মুরগি কষা খেয়ে নদীর ধারে বাঁশ-বেতের ছাউনিতে বসে প্রধানজীর সাথে আড্ডা আর পরেরদিনের প্ল্যান ঠিক করা। ড্রাইভার নেই, তাই হঠাৎ করে ঠিক হল প্রধানজীর ভাই জীবনজী

আমাদের নিয়ে যাবেন।

পরদিন সকালে উঠে লুচি, কালোজিরে দিয়ে আলুর চচ্চড়ি, ডিমসেদ্ধ সাঁটিয়ে তিনচুলে, লামাহাট্টা, তাকদা ঘুরতে গেলাম। ইচ্ছা করেই বেশী ঘুরলাম। লামাহাট্টা পার্ক, তাকদা টি গার্ডেন, রংলি রংলিয়ত, তিস্তা, ত্রিবেণী দেখে ফেরার

রাস্তা ধরলাম। লামাহাট্টা পার্কে রোদের আলোয় ফুলের খেলা আর ছোট্ট ট্রেক করে ওপরে লেক দেখে আসা। এরপর তিনচুলে, পথে সঙ্গী থাকল গুরাস বা রডোডেনড্রন। একটি বাড়িতে অনেক ফুল দেখে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, বাড়ির

মহিলাটি আদর করে ডেকে ফুল চেনালেন, আসার সময় হাতে দিলেন একগোছা রাইশাক, বারণ সত্ত্বেও। এই আমার ভারতবর্ষ, এই আমার পাহাড়, এই আমাদের আতিথেয়তা। শাকটা আমরা ড্রাইভারকেই দিয়ে দিলাম। মালদিরাম হয়ে

ফেরার পালা। ঘন কুয়াশা আর জঙ্গুলে গাছের মধ্যে দিয়ে সর্পিল বাঁক, মন কেমন হয়ে যাবে এই আলো-আঁধারিতে। আবার কখনও রোদে ধোয়া কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে সব মনখারাপ গায়েব হয়ে যাবে। একসময় শুরু হল প্রচন্ড বৃষ্টি, সাথে

নামতে থাকল তাপমাত্রা। খিদে পাচ্ছে কিন্তু সব দোকান তখন বন্ধ। একসময় একটি ছোট্ট নেপালি দোকান খোলা পেলাম। এত ঠান্ডা তখন যে জলে হাত দিলে কারেণ্ট লাগছে‌। খিদের পেটে পাওয়া গেল অমৃত। চিকেন মোমো আর গরম

ভাত, ডাল, চাটনিওয়ালা আলুর তরকারি আর ঝাল চিকেন কষা। ঐ পরিবেশে এর বিকল্প হয় না। একসময় শিবখোলা ফিরলাম। সন্ধ্যায় তখন নদী ফুঁসছে পাহাড়ি বৃষ্টির জলে। পাশে জ্বালানো হল ক্যাম্পফায়ারের আগুন আর সাথে

ঝলসানো চিকেন। সঙ্গতে গিটার, মাউথঅর্গান নিয়ে চললো দাপাদাপি। রাতটা কাটিয়ে পরদিন যখন ফিরছি, মনটা উতলা হয়ে গেল এত অসাধারণ জায়গা ছেড়ে যাবার জন্য। যাক, এবার গন্তব্য সিটং।

NJP to Shivkhola Driver (Mamesh):- 9679822019, বড় গাড়িভাড়া ছিল 2000 টাকা।

Shivkhola-Tinchukey-Lamahatta-Takdah-Shivkhola Car (Mr J P Pradhan):- 9083007015। বড় গাড়িভাড়া ছিল 4000 টাকা, রাস্তা বড় কম ছিল না।

Shivkhola Adventure Camp- 8910116905/7076012314 (Mr D P Pradhan)

Website:- http://www.shivakholaadventurecamp.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের অ্যাপ ব্যবহার করুন
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial