মনোরমা_মন্দারমণি

Credit and Writer – Madhusree Singha

নের শুরুতে গেছিলাম গাড়োয়াল পর্বতশ্রেণী মন ভরে পাহাড় দেখে বাড়ী ফিরে এসে খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। কিন্তু পকেট বাবাজীর ভাঁড়ারও আবার শূন্য, তাই কম খরচে কোথায় যাওয়া যায়

মনে মনে ভাবতে লাগলাম। মন্দারমণির নাম বলাতে পতিদেব দ্বিগুণ উৎসাহে তার এক বন্ধুসম দাদা-বৌদিকে টেলিফোন করলো। তারাও সাথে সাথে রাজী। পরেরদিন সকাল সকাল টিকিট কাটা হ’ল

হাওড়া -দীঘা AC super fast with launch. (11:10am-2:20pm) চারজনের ভাড়া 2160/- খাবার খুবই ভালো ( 1 লিটারের জলের বোতল, ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন, টক দই, ক্রিমবেলের কাপ আইসক্রিম)।

ট্রেনের ভেতরটাও বেশ সুন্দর।

আমরা ঠিক দুপুর 2:30 নাগাদ নামলাম দীঘা স্টেশনে। নেমে একটা গাড়ি ভাড়া করে (700-800/-) সোজা বেরিয়ে গেলাম আমাদের গন্তব্যের দিকে । একেবারেই সমুদ্রের গায়ে লাগানো হোটেলও বুক

করা ছিল (দিন প্রতি 1000/-)। হোটেলে নেমে প্রথমেই চোখ গেল সমুদ্রে। রুমে না গিয়ে ছুটে গেলাম সমুদ্রে ।তখন সমুদ্র অনেকখানি দূরে পরিষ্কার বালির কটকী প্রিন্টের তট দিয়ে হেঁটে গেলাম। একটু

যেতেই দেখি অসংখ্য লাল কাঁকড়া আর সাদা ঝিনুকের পসরা সাজিয়ে বসেছে প্রকৃতি। ঝিনুক কুড়োতে লাগলাম খুব উৎসাহে। নীল আকাশের নীচে জলের রঙও নীল দেখাচ্ছে। নির্জন এক সমুদ্র তটে

কেবল আমরা অতি পরিচিত চারজন। সে এক অন্য অনুভূতি। যারা মনে প্রশান্তি নিয়ে শুধুমাত্র ব্যস্ত জীবন থেকে কয়েকটা দিন মুক্তি চান, তাদের জন্য মন্দারমণি যেন অপেক্ষা করে আছে।

রুমে গিয়ে দেখি আমাদের রুমের তিনদিকের জানালা দিয়েই সমুদ্র দেখা যাচ্ছে। তারপর ফ্রেশ হয়ে আবার গিয়ে বীচ ধরে হাঁটতে লাগলাম। তাড়াতাড়ি সন্ধ্যে নামার আগেই ফিরে এলাম কারণ সূর্য

ডোবার সাথে সাথে হু হু করে জল হোটেলের নীচের পাথর ঘেরা অংশে আছড়ে পড়ে। আবার সকাল হওয়া পর্যন্ত জল দুরে সরে যায়। তারপর আবার বাড়তে থাকে দুপুর 12 টা পর্যন্ত। যত বিকেল হয়

জল সরে গিয়ে পরিষ্কার তটভূমি নজরে আসে। জলের এই আসা যাওয়া দেখলে মানুষের জীবনের উত্থান পতনের কথা মনে পড়ে যায়।
“শঙ্কা যেথায় কেউ করেনা সেইখানে হয় জাহাজ ডুবি”
তবে প্রকৃতি যায় হোকনা কেন.. খাদ্য রসিক বাঙালি তার মনমতো আহার না পেলে যেন সবই বৃথা। এই বিষয়টিতে একবারও হতাশ হতে হয়নি এই ট্যুরে তার টের ঐ ট্রেনের লাঞ্চ থেকেই বোঝা গেছে।

বিকেলে বিভিন্ন রকমের স্ন্যাকস্, ডিনার, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ সব কিছুই ছিল লভোনীয় কিছু পদে ঠাসা।

একটাদিন গেছিলাম তাজপুর সেখানে অনেকটা নষ্ট হয়ে যাওয়া বীচ দেখে মন খুব খারাপ হলো। স্থানীয়দের মুখে শুনলাম বিগত কয়েক বছরে সমুদ্র অনেকটাই গ্রাস করেছে বেলাভূমিকে এবং যা

ক্রমবর্ধমান। হয়তো অদূরে তাজপুর নামক সী-বীচটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
সর্বোপরি খুব সুন্দর দৃশ্য আর রিফ্রেশমেন্ট নিয়ে ফিরে এলাম বাড়ী।

যারা ভীড় এড়াতে চান তাদেরকে বলবো সপ্তাহান্ত বা কোনো ছুটির দিন বাদে যান। আমরা সেরকমই গেছিলাম। হয়তো সবার ছুটি ম্যানেজ করা একটু কষ্টকর তবুও প্রকৃতির আসল মজা নিতে চাইলে

সপ্তাহের মাঝখানই শ্রেষ্ঠ ।😊
Pictures captured by :Madhusree Singha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial