“বড়ন্তি” – প্রকৃতির সৌন্দর্য by Shamik Gupta

 

Credit and Writer – Shamik Gupta

প্রথম অঙ্ক:
বউ বেশ মাখো মাখো গলায় বলল “চল, বড়ন্তি যাবে”? “ধুর, অত সময় কোথায়। অফিসের ছুটি নিতে হবে, মার্চ মাস চলছে। বস রামখেকো দের মতো লাল চোখে শুধু মেপে নেবে”। শুধু এটুকু বলতেই বৌএর চোখ একবার ধক করে জ্বলে উঠলো। হে সখা, বস কে সামলে নেবো বউ কে সামলানো চাপের, মানে ইয়ে , মানে বুঝতেই পারছেন। সঙ্গে আবার তার বান্ধবীরা যাবেন, তাদের বর রা নাকি বলতেই রাজি। টিকিট ও নাকি একজনের বর কেটে ফেলেছেন। আমার তখন “সত্যি বলছি, অা..আ.. আমি চুরি করিনি” টাইপ অবস্থা। তবুও বেশ রেলা নিয়ে বললাম ” তারা তো আর আমার মতো বেসরকারি চাকরি করেনা”। আর যায় কোথা, তিন মিনিটে লিস্ট হাজির, একজন CTS, একজন IBM, আর একজন প্রাইভেট ব্যাংক। চার মিনিটের মাথায়, ফোন কল চালু। সাত মিনিটের মাথায় WhatsApp group তৈরি হয়ে গেলো আর আট মিনিটের মাথায় টিকিট ও চলে এলো। আর কি আশ্চর্য, বস কে বলতেই একগাল হেসে ছুটি মঞ্জুর করে দিল। কিচ্ছু বুঝতে পারলাম না, পুরো হারুন আল রশীদ কেস।

দ্বিতীয় অঙ্ক:
বড়ন্তি পৌঁছতেই বেশ বেলা গড়িয়ে গেলো। বেশ রোমান্টিক টাইপ জায়গা কিন্তু। রিসর্ট এর গা বেয়েই পাহাড় উঠে গেছে। বউকে বলতেই , জোরে আমার নাক টা টিপে দিয়ে বললো “সন্তুমনু, ওই জন্যই তো আসতে চেয়েছিলাম”। আমি নাক টিপে ধরে নাকী গলায় বললাম “আই লাভ ইউ”।

গড়পঞ্চকোট গিয়ে আমার আবার কেমন যেন জাতিস্বর জাতিস্মর ভাব এলো। ভাঙ্গা কেল্লা দেখে মনে হলো ওখানে আমরা খেলতাম, ওখানে আমাদের বাড়ি ছিল, এই ভেবে আনমনা ভাবে কেল্লা টার কাছে যেতেই পিছন থেকে ডাক্তার হাজরার ডাক এলো ” এই তুমি কোথায় গেলে, চা খাবে এসো”। রইলো মুকুল মুকুল খেলা। চা খেয়ে চললাম উদয়ন পণ্ডিতের গুহায় জয় চন্ডী পাহাড়ে। আবার মনটা কেমন গুপী গুপী হতেই, হীরক রানী বললেন “কি করছো বলতো একলা একলা। সবাই একসঙ্গে ঘুরছে, তোমার ও তাই করা উচিত, ঠিক কিনা”? আমি বললাম “ঠিক ঠিক”।

পরের দিন মাইথন ড্যাম এ যখন কাউকে না বলে সবার জন্য বোটিং এর টিকিট নিজের পকেট থেকে কেটে আনলাম, তিনি অমন করে একবার হেসে উঠে আমার দিকে তাকালেন, মাইরি বলছি ধর্মাবতার, আবার প্রেমে পড়ে গেলাম। বেশ একটা, স্বাধীনতা সংগ্রামী টাইপ ফিল হচ্ছিল কিন্তু।

শেষ অঙ্ক:
অযোধ্যা পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছতেই বেলা সাড়ে এগারোটা বাজলো। এদিকে ট্রেন বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ পুরুলিয়া স্টেশন থেকে, প্রায় দেড় ঘন্টার রাস্তা। তার আবার অযোধ্যা পাহাড়ে লোয়ার ড্যাম দেখে এত ভালো লাগলো, গুনে গুনে ছাপ্পান্ন খানা ছবি তুললেন, সেটাও ছাপ্পান্ন খানা আলাদা পোজ দিয়ে।
ভাগ্যিস আমার ক্যামেরা তে আবার ফোন করা যায় (উল্টো বললাম নাকি!)
ড্রাইভার ফোন করতে ব্যাপার টা বলতেই সে বললো, ছাপ্পান্ন অবধি ঠিক আছে, সাতান্ন খানা তুললেই কিন্তু পাক্কা ট্রেন মিস করবো। শুনেই স্থির করে নিলাম, বউ এর হাত ধরে দৌড় লাগলাম। দু একজন আবার মন্তব্য করলেন, “হুঃ, কি দিনকাল পড়েছে, ড্যাম দেখে আবার দৌড়ানোর কি আছে”। ড্রাইভার কি ভাবে দেড় ঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করলো জানি না, স্টেশন এ ঢুকে দেখলাম ট্রেন টা ছেড়ে দিয়েছে। ব্যাগ গুলো ছুড়ে কামরার ভেতর ফেলে এক লাফে উঠে রড ধরে এক হাত বাড়িয়ে দিলাম দিলওয়ালে স্টাইলে। তিনি কি আর এই সুযোগ ছাড়েন, খপাত করে হাত টা ধরতেই এক হাচকায় তুলে নিলাম। তিনি হাফাঁতে হাফাঁতে আমার নাক টা টিপে দিয়ে বললেন “ওহ, আমার হীরো”, আর আমি নাক টিপে ধরে আবার নাকী গলায় বললাম ” আই লাভ ইউ”।

পুনশ্চ:
কিছু ছবি দিলাম। বড়ন্তি র সূর্যাস্ত অস্বাভাবিক সুন্দর। গ্রাম্য মেঠো পথ, মাটির আলপনা দেওয়া বাড়ি, ছাগল চড়ানো রাখাল, মাথায় গাছের ডাল বয়ে নিয়ে যাওয়া গ্রাম্য বালিকা, সহজ সরল মানুষ এরা বরাবরই আমার মন টানে। আপনারা গিয়ে না থাকলে ঘুরে আসুন। ভালো না লাগলে, আমার নাম শমীক, একটা না হয় কুকুর ই পুষে নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের অ্যাপ ব্যবহার করুন
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial