বিষ্ণুপুর – মুকুটমণিপুর টুর

 

Credit and Writer – Arup Pramanik

সারাসপ্তাহ অফিস আর বাড়ি করতে থাকা আমার সপ্তাহের শেষ দিন টা সাধারণত ঘুমিয়ে বা ল্যাদ খেয়েই কাটে | তার উপর চারপাশে হোলি, বসন্ত উৎসব এর আবহে মন টা কেমন যেন খারাপ হয়ে ছিলো | কিন্তু হঠাৎ করে ই নাটক এর দৃশ্য পরিবর্তন হোলো | শনিবার অফিস থেকে ফেরার পথে জানতে পারলাম প্ল্যানটার কথা, জানার পরেই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে তৈরী হওয়া এবং কাউন্টডাউন শুরু !!

ঠিক রাত ১:৩০ এ আমাদের যাত্রা শুরু | সারারাত এর পথচলা শেষে যখন সূর্যের প্রথম আলো পড়ছে আমরা উপস্থিত হলাম মন্দির শহর বিষ্ণুপুর এর দোরগোড়ায় ||একটা ছোটো বিরতি নেওয়া হোলো, সবাই ফ্রেশ হয়ে একদফা ফটো সেশন ও হয়ে গেলো | আবার চলতে শুরু করে, জয়পুর জঙ্গল পেরিয়ে যখন আমরা বিষ্ণুপুর এর প্রথম স্পট মদন মোহন মন্দিরে পৌঁছলাম, তখন ও চারপাশের মানুষ এমনকি মন্দিরের আরাধ্য দেবতা রাধা-শ্যাম জীর ঘুম ও ঠিক করে ভাঙেনি | তাও আমরা ঢুকে পড়লাম মন্দিরে এবং চারশো / পাঁচশো বছরের পুরোনো টেরাকোটার কাজের মন্দির দেখার সাথে সাথেই উঁকিঝুঁকি মেরে ঠাকুর দর্শন ও করে ফেললাম ! এরপর একে একে রাসমঞ্চ, জোড়া বাংলো মন্দির, পাথর দরজা, গুমগর ও আরও কয়েকটা মন্দির ও তার অসাধারণ সুন্দর কারুকার্য দেখে আমরা রওনা দিলাম মুকুটমণিপুর এর উদ্দেশ্যে |

আবার প্রায় ৭০ কিমি র পথ চলা | পথের দুধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর গ্রামের পরিবেশ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম কংসাবতী নদীর বাঁধ মুকুটমণিপুরে | বাকি দিন টা সুন্দরী কংসাবতী আর কুমারী নদীর সাথেই কাটালাম, বিকেল হওয়ার সাথে সাথে তারা আরও রূপবতী হচ্ছিলো !!

কিন্তু এই যে সময়,বড়োই তাড়া তার! আমাদের ও তার সাথে তাল মিলিয়ে ই চলতে হবে কিছু ই করার নেই | তাই ওই সুন্দর প্রকৃতি পরিবেশ ও বেশ কয়েকটা না দেখা জায়গার পিছুটান কে ফেলে রেখেই আমরা আবার বাড়ির পথ ধরলাম ||

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের অ্যাপ ব্যবহার করুন
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial