বর্ষায় দারিংবাড়ির মজা

Credits and Writer – Soma Bhattachariya

যাবো কি যাবো না…মনে একটা সংশয় ছিল…যে ভরা শ্রাবনে পাহাড়ি জায়গায় বিশেষত যেখানে সকলে শীতকালে যাওয়ার কথাই বলে….সেটা কি ঠিক হবে?…যাই হোক , টিকেট যখন কাটা ,থাকার জায়গা ঠিক,তখন সব সংশয় ঝেড়ে ফেলে গত 26th জুলাই হাওড়া -যশোবন্ত পুর এক্সপ্রেস ধরে বেরিয়ে পড়া গেলো দলবল নিয়ে—তা প্রায় 20 জন….পরদিন সকাল ৬.৩০ নাগাদ পৌছালাম ব্রহ্মপুর …সেখানে Deers Eco homestay এর গাড়ি অপেক্ষা করছিলো …মালপত্র গাড়ির মাথায় চাপিয়ে চলো দারিংবাড়ি…প্রসঙ্গত বলি যে সকলেই জানেন দারিংবাড়ি ওড়িশার কন্ধমাল জেলার অবস্থিত একটি শৈল শহর (915 m) ..যাকে ওড়িশার কাশ্মীর ও বলা হয়…শীতকালে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়….চারদিকে পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা জায়গাটির মাধুর্য সম্পর্কে বলতে গেলে এই লেখা লম্বা আকার নেবে…তাই আমার মোবাইল ক্যামেরায় এ তোলা ছবিগুলোকেই সেই কাজের দায়িত্ব দিলাম..যাইহোক গাড়ি

শহর ছাড়াতেই মন ভালো করা দৃশ্যও ট্রেন যাত্রার ধকল ভুলিয়ে দিলো …ক্লান্তি থাকলেও ঘুম নেই চোখে..এতো সবুজ ….এতো সবুজ..মনে হচ্ছিলো যেন পৃথিবীর সব সবুজ রং বুঝি এই পাহাড় গুলোর গায়ে ……কোথাও পড়েছিলাম হিংসার রং নাকি সবুজ…কিন্তু আমার মনে হলো যে মানসিক শান্তির ও স্থিরতার রং ই বোধহয় সবুজ..কারণ এতো প্রকৃতির রং…হাঁ হিংসা হয় বৈকি পথ চলতি আদিবাসীদের দেখে ..কি সুন্দর জায়গায় ওরা থাকে……..

যাই হোক একবার মাঝে জলখাবারের বিরতি নিয়ে মোটামুটি বেলা 11 টা নাগাদ এসে পৌছালাম Deers Eco হোম এ আগামী দু দিন এই ছিল আমাদের ঠিকানা ..পাহাড় ঘেরা চারিদিক…মেঘলা ছিল….ভিতরের ঘরগুলি বেশ ভালোই…আর গাছপালায় ঢাকা…স্নান করে খাওয়া দাওয়া করে বেলা তিন টে নাগাদ গেলাম মন্দাসরু ইকো পার্ক এ.. ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো দারিংবাড়ি র ভিউ ..সঙ্গে ঝিরি ঝিরি বৃস্টি র ওখানে কফি শপে কফি পান….কফি দিদির (যিনি কফি করছিলেন ) কথা আর ক্ষনে ক্ষনে হাসি ….অতিরিক্ত পাওনা…..আশেপাশে বেশ কিছু বাংলো ..পুরো কাঠের ..জানলাম যে এক দিনের ভাড়া বেশ চড়া..ভাবলাম মনে মনে যে আমরাও তো বেশ সুন্দর জায়গা তেই.আছি…..অনলাইন বুকিং ও হয় শুনলাম…..যাই হোক.. আমরা দু দিন ছিলাম…দারিংবাড়িতে….ঘুরেছি মিদুবান্দা জলপ্রপাত, ডোডোবাড়া বা লাভার্স পয়েন্ট,দোলুরি নদী,,কফি বাগিচা,পাইন জঙ্গল,এমু ফার্ম,সাইলেন্ট ভ্যালি, …আর তার সাথে উপভোগ করেছি প্রকৃতিকে….এমন প্রশান্তির জায়গা যে চঞ্চল প্রজাপতিও হাতের উপরে এসে বসে….প্রকৃতি র মাঝে থেকে ওরাও এখানে মানুষকে ভরসা করে….নির্ভয়ে হাতে গায়ে উড়ে এসে বসে….দুলুরি নদীর দৃশ্য বলাই বাহুল্য মনভোলানো…..সারাদিন কাটিয়ে দিতে ইচ্ছা করে….কিন্তু আমরা নিরুপায়….তাই মন ক্যামেরায় যতটাসম্ভব বন্দি করে নিয়ে গাড়িতে উঠলাম….এরপরে গিয়েচিলাম গোলমরিচের বাগানে..অর্গানিক হলুদ ও গোলমরিচ কিনলাম…..বাগানে কমলা মাশরুম সকলের দৃশ্য টেনে নিয়েছিল..

দারিং বাড়ি থেকে আমরা গিয়েছিলাম সোজা গোপালপুর……..(আসার সময় একটা জলপ্রপাত কাছে গিয়েও দেখা হয়নি,সম্ভব লুদু…রাস্তা খারাপ ছিল..পায়ে হেটে অনেকটা যেতে হতো…আর কর্দমাক্ত রাস্তা ছিল),এছাড়া হরভাঙ্গী জলাধার, ,পদ্মসম্ভব মহাবীর মনাস্টেরী ( গজপতি জেলার চন্দ্রাগিরিতে অবস্থিত ), তপ্তপানী –এসব দেখতে দেখতে এসে পড়লাম ভীষণ হওয়া আর উত্তাল সমুদ্রের শহরে.গোপালপুরে…তখন প্রায় সূর্য অস্তপ্রায়…..জায়গা হলো ওশান ইন হোটেলে….এত্ত হওয়া রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছিলো উড়ে যাবো…সমুদ্রের বিচ এ বালি উড়ে এসে রীতিমতো ফুটছে গায়ে.

পরদিন গেলাম

১ ) সিদ্ধা ভৈরবী মন্দির,বেশ সুন্দর মন্দির,প্রশস্ত মন্দির চত্বর,( গঞ্জাম জেলায় অবস্থিত এই মন্দিটি তে পূজিত দেবী হলেন সিদ্ধ ভৈরবী যার এক পা এবং চার হাত যুক্ত ),মন্দিরটি ব্রহ্মপুর থেকে ১৮ কিলোমিটার ,

২ ) গোল্ডেন বিচ—বেশ সুন্দর পরিষ্কার একটি বিচ…কিন্তু স্নান করিনি কারণ সেরকম ব্যবস্থ্যা নেই ,আর সমুদ্র তো একেবারে উত্তাল,হাওয়ায় চোটে বেশিক্ষন দাঁড়ানো যায় না,

৩)ঋষিকুইল্ল্যা নদীর ধারে কুমারী হিলস এর উপরে তারাতারিণী মন্দির–যেটা অন্যতম শক্তি পিঠ….বহু প্রাচীন এই পাথরের মন্দির গুলি দেখবার মতো আর তার সাথে পাহাড়ের চারিধারে শোভা ….বেশ কিছুক্ষন কাটালাম এখানে……

পরদিন সকালে গোপালপুর থেকে বহ্মপুর থেকে ট্রেন ধরে পুরী….ফনির পরে এই প্রথম পুরী গেলাম.,অনেকটাই সামলে নিয়েছে ,তবে এখনো সারানোর কাজ চলছে দেখলাম,…

প্রসঙ্গত বলি ,পুরীতে আমরা পাঞ্জাব না সিন্দ ব্যাঙ্ক এর হলিডে হোম এ থাকি…আর খাইদাই নিউ sea hawk এ…

পুরী মানেই জগন্নাথ দর্শন …না হলে মন শান্তি পায় না ..আর কেনা কাটা ..তো আছেই….পুরী spl খাজা আর শাড়ী…..( সামনেই পুজো তাই কালেকশন বাড়ানো আর কি 🙂

. তবে অনেকবার পুরী গেলেও এই প্রথম গেলাম রঘুরাজপুরে….পটুয়াদের হাতের কাজ দেখলাম…সংগ্রহ করলাম কিছু….দেখবার মতোই শিল্পকর্মের সম্ভার.অসম্ভব গুণী ও দক্ষ শিল্পী সবাই..

এবার পুরীতে স্নান করিনি…সময় কম ছিল একটু …

সব মিলিয়ে এই ট্যুর বেশ ভালোই লেগেছে কিন্তু দারিংবাড়ির যে বর্ষা ভেজা আমেজ ..সেটা গোপালপুর আসতেই কেটে গিয়েছিলো….কিন্তু একটা কথা না বলে পারছি না. যে যাবার আগে অনেক দারিংবাড়ি সম্পর্কে পোস্ট পড়েছি ধারণা নেবো বলে,বেশির ভাগ ই না সূচক বক্তব্ব্য ..যে যাবেন না..কিছু নেই দেখার,গেলে শীতকালে যান,তো সেই প্রসঙ্গে শুধু বলতে চাই…..শীতকালে তো যাবেন ই..পারলে বর্ষায় ঘুরে আসবেন…..প্রকৃতি প্রেমিক হলে তো কথাই নেই,না হলেও ক্ষতি নেই কারণ দারিংবাড়ির সবুজে ঢাকা পাহাড়ের শোভা দেখে.আপনার ভালো লাগবেই , অনেক ছবি তুলেছিলাম …তার মধ্যে কিছু ছবি ভাগ করে নিলাম …সকলের যদি ভালো লাগে তাহলে জানবো আমার ছবি তোলা সার্থক.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial